দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে বসে জন্মদিন উদ্যাপনের ঘটনায় সমালোচনা তৈরি হয়েছে। কর্মদিবসে দাপ্তরিক কার্যালয়ে অধস্তন কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের নিয়ে কেক কাটার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নার্গিস ফাতেমা তোকারদার। সরকারি অফিসে এ ধরনের ব্যক্তিগত আয়োজনের যৌক্তিকতা ও কর্মঘণ্টায় দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক আইডিতে জন্মদিন উদ্যাপনের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন ওই কর্মকর্তা। একটি ছবিতে দেখা যায়, নিজ কার্যালয়ে বসে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রাশেদুল হক মণ্ডলকে কেক খাইয়ে দিচ্ছেন নার্গিস ফাতেমা তোকারদার। অন্য ছবিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদেরও দেখা যায়।
ছবির সঙ্গে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, ‘সপ্তাহের প্রথম দিন ভীষণ কাজের চাপ। তার মধ্যে এসেছে পিটিআই ফেরত আমার প্রিয় শিক্ষকগণ আমার জন্মদিন পালন করার জন্য। ওরা মনে করিয়ে দিল আমার আর ৩৬৪ দিন রিজিক আছে কর্মজীবনে যদি বেঁচে থাকি।’
পোস্টের আরেক অংশে তিনি লেখেন, ‘তোমরা তোমাদের যে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় আমায় সিক্ত করেছো, ঠিক তেমনি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত করবে তোমাদের উত্তরসূরীরা।’
জানা গেছে, গত রোববার (১ নভেম্বর) ছিল নার্গিস ফাতেমা তোকারদারের ৫৮তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে তাঁর কার্যালয়ে কেক কেটে উদ্যাপন করেন কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, ছবিতে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা ওই শিক্ষা কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। কর্মদিবসে সরকারি কার্যালয়ে এ ধরনের আয়োজন এবং দাপ্তরিক কাজের সময় ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান উদ্যাপনের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরও নিজের জন্মদিন উদ্যাপনের একাধিক ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করেছিলেন ওই কর্মকর্তা। ফলে সরকারি কার্যালয়ে ব্যক্তিগত আয়োজনের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নার্গিস ফাতেমা তোকারদার বলেন, ‘আমার শিক্ষকেরা ছোট একটি কেক এনে আমার অফিসে কেটেছেন মাত্র। তাঁরা দুই মিনিটও সেখানে ছিলেন না।’
কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, ‘এমন ছবি আমিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। তবে অফিসে কেক কাটা ঠিক হয়নি।’
এ বিষয়ে জানতে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম আরিফের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এমজে